প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সিপালের নিজের কথায় জামেয়ার জন্ম, স্বপ্ন ও পথচলা – ২৫ বছর পূর্তিতে যে ইতিহাস বলে গিয়েছিলেন জনাব মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী (রহ.)

শাহজালাল জামেয়া ইসলামিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ আজ যে বৃহৎ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে, এর শুরুটা কেমন ছিল? কেন প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল জামেয়া? কেমন শিক্ষার্থী গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখেছিলেন এর প্রতিষ্ঠাতারা? শুরুর দিনগুলোতে কী ধরনের চ্যালেঞ্জ ছিল? আর ভবিষ্যতের জামেয়াকে কোথায় দেখতে চেয়েছিলেন এর প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সিপাল?

এসব প্রশ্নের উত্তর প্রায় এক-চতুর্থাংশ শতাব্দী আগেই নিজের ভাষায় দিয়ে গিয়েছিলেন জামেয়ার প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সিপাল মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী (রহ.)।

জামেয়ার ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে প্রকাশিত প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রী পুনর্মিলনী স্মারক ‘সত্যের সূর্যোদয়’ এর জন্য তাঁর এই সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেছিলেন জামেয়ার তৎকালীন সহকারী অধ্যাপক বাসিত ইবনে হাবিব।

২০২৬ সালের ১৩ জুন জনাব মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী (রহ.) ইন্তেকাল করেন। তাঁর ইন্তেকালের পর পুরোনো এই সাক্ষাৎকার আজ শুধু একটি স্মারকের লেখা নয়; জামেয়ার জন্ম, প্রতিষ্ঠার দর্শন, প্রথম দিকের পথচলা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সিপালের নিজের কণ্ঠে রেখে যাওয়া এক মূল্যবান ঐতিহাসিক দলিল।

“যারা জামেয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন, তাঁদের একজন আমিও ছিলাম”

সাক্ষাৎকারের শুরুতেই তাঁকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল – জামেয়ার প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সিপাল হিসেবে তিনি কেমন আছেন?

উত্তরে নিজের সঙ্গে জামেয়ার সম্পর্কটি তিনি অত্যন্ত সংক্ষেপে কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণভাবে তুলে ধরেছিলেন। তিনি বলেন, শুরু থেকেই তিনি জামেয়ার সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং যাঁরা জামেয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন, তাঁদের একজন তিনিও ছিলেন।তাঁর ভাষায় “আমি জামেয়ার প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে জড়িত ছিলাম এবং যারা জামেয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন, তাঁদের একজন আমিও ছিলাম।”

এই একটি বাক্য জামেয়ার ইতিহাস বোঝার জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ তাঁর দায়িত্ব শুধু প্রতিষ্ঠার পর প্রিন্সিপালের পদ গ্রহণের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না; প্রতিষ্ঠানের স্বপ্ন ও সূচনালগ্নের সঙ্গেও তিনি সরাসরি সম্পৃক্ত ছিলেন।

২৬ জানুয়ারি ১৯৭৮: জামেয়ার আনুষ্ঠানিক যাত্রা

মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী (রহ.) সাক্ষাৎকারে জানান, ১৯৭৮ সালের ২৬ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে জামেয়া তার লক্ষ্যের পথে যাত্রা শুরু করে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তৎকালীন সিলেটের জেলা প্রশাসক মু. ফয়জুল্লাহ সিএসপি এবং আন্তর্জাতিক ইসলামী চিন্তাবিদ মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী উপস্থিত ছিলেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তবে জামেয়ার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনেরও আগে তাঁর ওপর প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব অর্পিত হয়েছিল। তিনি জানান “প্রিন্সিপালের দায়িত্ব দেয়া হয় ১৯৭৭ সালের ১লা ডিসেম্বর। সে সময় থেকে মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার রহমতের উপর ভরসা করে আমার উপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করতে থাকি।”

অর্থাৎ জামেয়ার আনুষ্ঠানিক যাত্রা ২৬ জানুয়ারি ১৯৭৮ হলেও এর প্রস্তুতি ও নেতৃত্বের দায়িত্ব আরও আগে থেকেই শুরু হয়েছিল।

কেন প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল জামেয়া?

সাক্ষাৎকারটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলোর একটি আসে যখন তাঁকে প্রশ্ন করা হয় – জামেয়া প্রতিষ্ঠার পেছনে মূল প্রেরণা বা স্বপ্ন কী ছিল?

তাঁর উত্তরে যে শিক্ষাদর্শ উঠে আসে, সেটিই সম্ভবত আজও জামেয়ার পরিচয় বোঝার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। তিনি বলেন “জামেয়া প্রতিষ্ঠার পেছনে আমাদের মূল স্বপ্ন ছিল ইসলামী শিক্ষায় সমৃদ্ধ এক ঝাঁক আধুনিক মেধাবী তৈরি করা।”

কিন্তু তাঁর স্বপ্ন শুধু ধর্মীয় ও সাধারণ শিক্ষাকে পাশাপাশি রাখার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না।তিনি এমন শিক্ষার্থীর কথা বলেছেন, যারা আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞান ও ইসলামী শিক্ষার আলোকে ভবিষ্যতের নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে; সুন্দর আচরণের মাধ্যমে সমাজে আদর্শ সৃষ্টি করবে এবং ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের যথার্থ রূপকার হবে।

তাঁর প্রত্যাশায় জামেয়া হবে “আদর্শ শিক্ষাঙ্গনের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত” এবং “বাংলাদেশে সুনাগরিক তৈরির একটি অনুপম কারখানা।”

প্রতিষ্ঠার প্রায় অর্ধশতাব্দী পর দাঁড়িয়ে এই কথাগুলো পড়লে বোঝা যায়, জামেয়ার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য কেবল পরীক্ষায় ভালো ফল করা শিক্ষার্থী তৈরি করা ছিল না। শিক্ষা, চরিত্র, নৈতিকতা, আধুনিক জ্ঞান এবং সামাজিক দায়িত্ববোধ – সবকিছুর সমন্বয়ে মানুষ গড়ে তোলাই ছিল মূল স্বপ্ন।

সাধারণ শিক্ষা নয়, পূর্ণাঙ্গ শিক্ষাব্যবস্থার ভাবনা

বাংলাদেশের শিক্ষাক্ষেত্রে এমন প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী (রহ.) তৎকালীন সমাজ ও রাষ্ট্রের বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন। দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও সন্ত্রাসসহ বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত সমাজে নৈতিক ও ইসলামী শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বলে তিনি মনে করতেন। তাঁর বক্তব্যে একটি বিষয় বিশেষভাবে স্পষ্ট – তিনি ইসলামী শিক্ষাকে সাধারণ শিক্ষার বিকল্প হিসেবে দেখেননি; বরং গোটা শিক্ষাব্যবস্থাকে একটি পূর্ণাঙ্গ ইসলামী শিক্ষা ব্যবস্থায় রূপান্তরের আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করেছিলেন। তাঁর দৃষ্টিতে একটি আধুনিক ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্র এবং সুখী-সমৃদ্ধ সমাজ নির্মাণে জামেয়ার মতো প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন ছিল।

শিক্ষার্থীর চরিত্র গঠনে প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা

ইসলামী তাহজিব বা জীবনাচারের আলোকে একজন শিক্ষার্থীকে গড়ে তুলতে জামেয়া কীভাবে অবদান রাখতে পারে – এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি শুধু পাঠ্যবই বা সিলেবাসের কথা বলেননি। বরং তাঁর বক্তব্যে একটি সমন্বিত শিক্ষাব্যবস্থার ধারণা পাওয়া যায়।তিনি মনে করতেন, কারিকুলাম ও সিলেবাস প্রণয়ন থেকে শুরু করে শিক্ষাদান এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশ – সবকিছু যথাযথ হলে শিক্ষার্থী তার প্রতিষ্ঠান দ্বারা প্রভাবিত হতে বাধ্য।

বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছিলেন শিক্ষার্থীর আচরণ ও চারিত্রিক দৃঢ়তার প্রতি। প্রতিষ্ঠানের নিয়ম-শৃঙ্খলা ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা এমন হতে হবে, যাতে একজন শিক্ষার্থী প্রতিষ্ঠানের বাইরে গিয়েও সেই আদর্শ অনুসরণ করতে শেখে। তাঁর কথায় “এক কথায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আদর্শিক প্রভাব তাদের উপর ফেলতে পারলেই জামেয়ার ইসলামী তাহজিব তামাদ্দুনের আলোকে শিক্ষার্থীদেরকে গড়ে তোলা সম্ভব হবে।”

কেমন জামেয়া দেখতে চেয়েছিলেন তিনি?

সাক্ষাৎকারের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ছিল – জামেয়ার উন্নতিকল্পে তাঁর পরামর্শ কী এবং ভবিষ্যতে তিনি জামেয়াকে কেমন দেখতে চান?

এখানে তাঁর উত্তর অত্যন্ত বাস্তবধর্মী। তিনি বলেন, একটি জাতি বিনির্মাণে যেমন সার্বিক পরিকল্পনা প্রয়োজন, একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য।

তিনি চেয়েছিলেন আধুনিক শিক্ষার প্রয়োজনীয় উপকরণের পরিচিত সরবরাহ – চক-ডাস্টার থেকে কম্পিউটার পর্যন্ত। তিনি চেয়েছিলেন এমন শিক্ষক, যাঁরা বিশ্বের আধুনিক বিষয়গুলোকে ইসলামের আলোকে সাজিয়ে পড়ানোর যোগ্যতা রাখবেন। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে মানসম্পন্ন প্রশ্ন ও সুষ্ঠু পরীক্ষা পদ্ধতির ওপর গুরুত্ব দিয়েছিলেন।

তাঁর প্রস্তাবগুলোর মধ্যে ছিল –

📝 শিক্ষার লক্ষ্য সুস্পষ্টভাবে নির্ধারণ;
📝সেই লক্ষ্য অনুযায়ী কারিকুলাম ও সিলেবাস প্রণয়ন;
📝 সিলেবাস-সম্বলিত পাঠ্যপুস্তক;
📝 শিক্ষার্থীদের গড়ে তোলার উপযোগী পরিবেশ ও সুযোগ-সুবিধা;
📝 সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনা ও যথাযথ আইন;
📝 শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ;
বাস্তবধর্মী শিক্ষাদান;
📝 শিক্ষক ও পরিচালকদের নিয়মিত মূল্যায়ন;
📝 শিক্ষাদানকে শুধু পেশা নয়, নেশা ও দায়িত্ববোধের কাজ হিসেবে গ্রহণ;
📝 পরীক্ষা-ভীতি দূর করা;
শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের ব্যবস্থা;
📝 Co-Curricular Activities এর সুযোগ।

প্রায় পঁচিশ বছর আগে দেওয়া এই পরামর্শগুলোর অনেকগুলোই আজকের শিক্ষা-আলোচনাতেও অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক।

“বাংলাদেশের একটি প্রথম শ্রেণীর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখতে চাই”

নিজের স্বপ্নের জামেয়া সম্পর্কে প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সিপালের বক্তব্য ছিল স্পষ্ট – “আমি জামেয়াকে বাংলাদেশের একটি প্রথম শ্রেণীর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখতে চাই।”

ততদিনে জামেয়া জাতীয় পর্যায়ে দুবার শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি পেয়েছিল বলেও তিনি সাক্ষাৎকারে উল্লেখ করেন। আর তাঁর কাছে আরেকটি আনন্দের বিষয় ছিল – জামেয়ায় লেখাপড়া করে অনেক শিক্ষার্থী তখনই দেশ-বিদেশে সুপ্রতিষ্ঠিত হতে শুরু করেছিলেন। তাঁর প্রত্যাশা ছিল, সেই ধারাবাহিকতা যেন অব্যাহত থাকে।

আজ বহু বছর পর বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে থাকা জামেয়ানদের শিক্ষা, পেশা, গবেষণা, ব্যবসা, চিকিৎসা, জনসেবা ও সমাজে অবদান দেখলে প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সিপালের সেই স্বপ্নের সঙ্গে বর্তমান জামেয়ার একটি দীর্ঘ যোগসূত্র খুঁজে পাওয়া যায়।

প্রতিষ্ঠার পথ ছিল ত্যাগ ও সহযোগিতার

একটি প্রতিষ্ঠান কোনো একজন মানুষের প্রচেষ্টায় গড়ে ওঠে না – এ কথাও প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সিপাল তাঁর সাক্ষাৎকারে স্পষ্টভাবে স্বীকার করেছেন। তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, জামেয়া প্রতিষ্ঠায় যাঁদের ত্যাগ ও শ্রম সবচেয়ে বেশি ছিল তাঁদের সম্পর্কে।

উত্তরে তিনি দীর্ঘ একটি তালিকায় এমন অনেক ব্যক্তির নাম উল্লেখ করেন, যাঁদের সাহায্য-সহযোগিতা জামেয়াকে গড়ে তুলতে তাঁকে বিশেষ অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিল।

এই তালিকাটি জামেয়ার ইতিহাসের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এখানে প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সিপাল নিজেই তাঁর সহযাত্রীদের স্মরণ করেছেন।তাঁদের প্রত্যেককে নিয়ে পৃথকভাবে তথ্য সংগ্রহ এবং জামেয়ার প্রতিষ্ঠাকালীন ইতিহাসে তাঁদের অবদান সংরক্ষণ করা প্রয়োজন।

স্মৃতিতে রয়ে যাওয়া দুটি ছোট ঘটনা

প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সিপালের কাছে দায়িত্ব পালনকালের স্মরণীয় ঘটনা জানতে চাইলে তিনি বড় কোনো পুরস্কার কিংবা ফলাফলের গল্প দিয়ে উত্তর দেননি। তাঁর মনে পড়ে দুটি ছোট ঘটনা।

প্রথমটি ছিল জামেয়ার ভবন নির্মাণকে ঘিরে। People’s Donation Collection এবং সৌদি সরকারের সহযোগিতায় নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। একই সঙ্গে দুটি ভবনের কাজ শুরু করতে গিয়ে পশ্চিম পাশের একটি ভবন ভেঙে ফেলতে হয়। ঘটনাটি তাঁকেসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে গভীরভাবে নাড়া করেছিল।

দ্বিতীয় স্মৃতিটি একেবারেই অন্যরকম – একটি শিশুর সরল কথায় পাওয়া আনন্দ।

তিনি স্মরণ করেন, তাঁর দায়িত্বকালে ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত মধুর। একদিন তিনি শিক্ষার্থীদের জন্য মিষ্টি নিয়ে যান। সবাই যখন একসঙ্গে মিষ্টি খাচ্ছিল, তখন ছোট এক ছাত্র বলে উঠেছিল “জনাব, আপনার বিয়ের মিষ্টি তো খেলাম, কিন্তু বিয়ে খেলাম না।”

বহু বছর পর সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময়ও ঘটনাটি তাঁকে আনন্দিত করত।

প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সিপালের এই দুটি স্মৃতি জামেয়ার শুরুর দিনের দুটি ভিন্ন ছবি সামনে আনে – একদিকে একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার সংগ্রাম ও বেদনা, অন্যদিকে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সহজ, আন্তরিক ও মধুর সম্পর্ক।

প্রতিষ্ঠাতা চলে গেছেন, তাঁর স্বপ্ন রয়ে গেছে

১৯৭৭ সালের ১ ডিসেম্বর দায়িত্ব গ্রহণ থেকে ১৯৭৮ সালের ২৬ জানুয়ারির আনুষ্ঠানিক যাত্রা – সেখান থেকে আজকের জামেয়া। মাঝখানে প্রায় অর্ধশতাব্দীর ইতিহাস।

জনাব মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী (রহ.) আজ আর আমাদের মাঝে নেই। ১৩ জুন ২০২৬ তিনি ইন্তেকাল করেন। কিন্তু ২৫ বছর পূর্তিতে দেওয়া এই সাক্ষাৎকারে তিনি যেন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য রেখে গেছেন কয়েকটি মৌলিক প্রশ্ন –

❓ জামেয়া কেন প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল?
❓ জামেয়া কেমন মানুষ তৈরি করবে?
❓ আর জামেয়া কোথায় যেতে চায়?

তাঁর উত্তরও তিনি দিয়ে গেছেন।

এমন এক প্রজন্ম, যারা ইসলামী শিক্ষায় সমৃদ্ধ হবে, আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞানে দক্ষ হবে, সুন্দর চরিত্রের অধিকারী হবে এবং দেশ ও সমাজের কল্যাণে ভূমিকা রাখবে।

প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সিপালের প্রতি প্রকৃত সম্মান হয়তো শুধু তাঁর নাম ও প্রতিষ্ঠার ইতিহাস স্মরণে রাখা নয়; যে স্বপ্ন নিয়ে তিনি এবং তাঁর সহযাত্রীরা জামেয়া গড়ে তুলেছিলেন, সেই স্বপ্নকে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং সময়ের প্রয়োজন অনুযায়ী তাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।

মহান আল্লাহ তাআলা জামেয়ার প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সিপাল মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী (রহ.)-এর সকল খেদমত কবুল করুন, তাঁর ভুলত্রুটি ক্ষমা করুন এবং তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন। আমীন।

ঐতিহাসিক সূত্র: শাহজালাল জামেয়া ইসলামিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের ২৫ বছর পূর্তি ও প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রী পুনর্মিলনী স্মারক ‘সত্যের সূর্যোদয়’ – মূল স্মৃতি, সাক্ষাৎকার ও লেখার অনুভূতি অক্ষুণ্ণ রেখে বিষয়ভিত্তিকভাবে সম্পাদনা ও উপস্থাপন করা হয়েছে। সাক্ষাৎকার: প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সিপাল মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী রহমতুল্লাহ (Maulana Farid Uddin Chowdhury Rahmatullah)। সাক্ষাৎকার গ্রহণে: বাসিত ইবনে হাবিব, তৎকালীন সহকারী অধ্যাপক, শাহজালাল জামেয়া ইসলামিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ।

Discover more from Jamia Alumni Network

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading