শাহজালাল জামেয়া ইসলামিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ (১৯৭৮-১৯৮৪), সাবেক সংসদ সদস্য, বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ ও সমাজসেবক মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী (রাহিমাহুল্লাহ) এর স্মরণে জামেয়া অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন ইউকে এর উদ্যোগে এক আন্তর্জাতিক অনলাইন স্মৃতিচারণ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে রোজ রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬ লন্ডন সময় বিকাল ৪টায়।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, মরিশাস, স্পেনসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে জামেয়ার প্রাক্তন শিক্ষার্থী, বর্তমান ও সাবেক জনাববৃন্দ এবং শুভানুধ্যায়ীরা অংশগ্রহণ করেন। বক্তারা মরহুমের ইলম, প্রজ্ঞা, নেতৃত্ব, শিক্ষা বিস্তার, সমাজসেবা এবং শাহজালাল জামেয়ার প্রতিষ্ঠা ও বিকাশে তাঁর অসামান্য অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। একই সঙ্গে জামেয়ার অগ্রযাত্রায় তৎকালীন শিক্ষকবৃন্দের আন্তরিক ত্যাগ ও অবদানও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করা হয়। ইতোমধ্যে ইন্তেকালকারী শিক্ষকবৃন্দের মাগফিরাত কামনা করে তাঁদের প্রতিও শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
অনুষ্ঠানে স্মৃতিচারণ করেন অবসরপ্রাপ্ত জনাবগণ – বাংলাদেশ থেকে আব্দুস শাকুর জনাব, জলিল জনাব ও মইয়েদ জনাব; যুক্তরাষ্ট্র থেকে শফিক জনাব ও মজির জনাব; এবং যুক্তরাজ্য থেকে মকবুল জনাব। তাঁরা প্রত্যেকেই মরহুমের আদর্শ, দূরদর্শিতা, ব্যক্তিত্ব এবং শাহজালাল জামেয়ার ভিত্তি নির্মাণে তাঁর ঐতিহাসিক ভূমিকার বিভিন্ন স্মৃতি তুলে ধরেন।
এছাড়াও, জামেয়ার বর্তমান প্রিন্সিপাল মোহাম্মদ গোলাম রব্বানী জনাব এর পক্ষ থেকে কলেজ ইনচার্জ রফিকুল ইসলাম মজুমদার জনাব সংক্ষিপ্ত বক্তব্য প্রদান করেন। তিনি মরহুমের প্রতিষ্ঠাকালীন নেতৃত্ব, শিক্ষা বিস্তারে তাঁর অসামান্য অবদান এবং শাহজালাল জামেয়ার আদর্শ ও ঐতিহ্য গড়ে তোলায় তাঁর ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।
জনাবদের পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে যুক্ত হওয়া অসংখ্য জামেয়ানও তাঁদের স্মৃতিচারণ করেন। তাঁরা মরহুমের স্নেহ, প্রজ্ঞা, নেতৃত্ব, শিক্ষাদর্শ ও ব্যক্তিত্বের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন এবং শাহজালাল জামেয়ার জন্য তাঁর অনন্য অবদানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
বিপুল সংখ্যক শিক্ষক, প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও শুভানুধ্যায়ীর অংশগ্রহণের কারণে সময়ের সীমাবদ্ধতায় উপস্থিত সকলের বক্তব্য গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। তবুও সবার উপস্থিতি ও দোয়া এই আয়োজনকে অর্থবহ ও স্মরণীয় করে তোলে।
মরহুমের পুত্র নজমুস সাকিব (মদিনা ইউনিভার্সিটি গ্র্যাজুয়েট) এবং জামাতা ড. মোহাম্মদ আনামুল হক চৌধুরী (মদিনা ইউনিভার্সিটি গ্র্যাজুয়েট ও মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার সাবেক উপদেষ্টা) তাঁদের পরিবারের পক্ষ থেকে জামেয়া অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন ইউকে এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অংশগ্রহণকারী সকল জামেয়ানের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তাঁরা বলেন, মরহুমের জীবন ও অবদানকে স্মরণ করে এমন একটি আয়োজন তাঁদের পরিবারকে গভীরভাবে স্পর্শ করেছে। তাঁরা বিশেষভাবে সকলের দোয়া, ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান এবং মরহুমের জন্য দোয়া অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানের শেষপর্বে মরহুমের পুত্র নজমুস সাকিব মাগফিরাতের জন্য বিশেষ মুনাজাত পরিচালনা করেন। মহান আল্লাহ তাআলার নিকট মরহুমের মাগফিরাত, জান্নাতুল ফিরদাউসের সর্বোচ্চ মর্যাদা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের জন্য সবরে জামিল কামনা করা হয়।
জামেয়া অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন ইউকে আয়োজিত এ স্মৃতিচারণ ও দোয়া মাহফিল বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে অবস্থানরত জামেয়ানদের মধ্যে ঐক্য, ভ্রাতৃত্ব, কৃতজ্ঞতা এবং নিজ প্রতিষ্ঠানের প্রতি গভীর ভালোবাসার এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে, ইনশাআল্লাহ।









