একজন ডা. হাবিবুর রহমান – জামেয়ার প্রতি এক নিবেদিতপ্রাণ অভিভাবক ও অনুপ্রেরণার আলোকবর্তিকা – লিখেছেন জনাব এনামুল হক – ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৩

শাহজালাল জামেয়া ইসলামিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের ইতিহাসে এমন কিছু নাম আছে, যাঁদের অবদান ও ভালোবাসা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁদের মধ্যে একজন হলেন ডা. হাবিবুর রহমান – একজন নিবেদিতপ্রাণ চিকিৎসক, মানবিক মানুষ এবং জামেয়ার এক অকৃত্রিম শুভানুধ্যায়ী।

লেখক এনামুল হক স্মৃতিচারণায় লিখেছেন –

“আমি ১৯৮৪ সালে শাহজালাল জামেয়া মিরাবাজারে শিক্ষক হিসেবে যোগদান করি। তখন জামেয়ার হোস্টেল ছিল রায়নগরের দর্জিবন্দ এলাকায়, এবং হোস্টেল সুপার ছিলেন শাকুর জনাব। প্রতি রাতে খাওয়া শেষে আমি শাকুর জনাবের কক্ষে বসতাম। প্রায়ই রাত সাড়ে নয়টা বা দশটার দিকে এক ভদ্রলোক এসে জামেয়া ও হোস্টেল নিয়ে আলোচনা করতেন – শিক্ষকদের অবস্থা, ছাত্রদের সুবিধা-অসুবিধা, জামেয়ার সার্বিক অগ্রগতি নিয়ে গভীর আগ্রহে কথা বলতেন।”

একদিন কৌতূহলবশত শাকুর জনাবকে জিজ্ঞেস করলে জানা যায় – সেই ভদ্রলোক ছিলেন ওসমানী মেডিকেল কলেজের একজন ডাক্তার – ডা. হাবিবুর রহমান।

আমি বিস্মিত হয়ে যাই – একজন ডাক্তার যিনি সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করেন, এরপর বিকেল থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত চেম্বারে রোগী দেখেন, তিনি এত ব্যস্ততার মাঝেও রাত ৯–১০টার দিকে রায়নগর হোস্টেলে চলে আসেন শুধু জামেয়ার খোঁজখবর নেওয়ার জন্য। এমন নিবেদন, এমন আন্তরিকতা সত্যিই বিরল।

শুধু জামেয়ার প্রতি নয়, মানুষের প্রতিও তাঁর ছিল অসীম মমতা। তিনি ছিলেন একজন মানবিক চিকিৎসক – মুসলিম বা অমুসলিম, ধনী বা গরিব, সবার প্রতি সমান দয়ার্দ্র। গরিব রোগীদের কাছ থেকে তিনি কখনও টাকা নিতেন না। তাঁর মৃত্যুর পর হিন্দু ধর্মাবলম্বী অনেক মানুষও কেঁদেছিলেন সেই স্নেহশীল ডাক্তারের জন্য।

এক আত্মীয় একবার তাঁকে বলেছিলেন,

“ডাক্তার সাহেব, এই সিলেট শহরে প্রায় সকল ডাক্তারের বাড়ি ও গাড়ি আছে, আপনি তো কিছুই করলেন না।”

ডা. হাবিবুর রহমান শান্তভাবে উত্তর দিয়েছিলেন,

“মাওলানা সাহেব, একটা সন্তান পৃথিবীতে আসার আগেই আল্লাহ তার রিজিক নির্ধারণ করে রাখেন।”

এটাই ছিল তাঁর জীবনের দর্শন – আল্লাহর উপর পরিপূর্ণ ভরসা, বিনয় এবং মানবতার প্রতি গভীর ভালোবাসা।

আজ তাঁর ইন্তেকালের ৩০ বছর পূর্ণ। তিনি রেখে গেছেন এক উজ্জ্বল উত্তরাধিকার – সব সন্তানই শাহজালাল জামেয়া ইসলামিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজে পড়াশোনা করেছেন। তাঁদের মধ্যে আছেন:

ডা. রেদওয়ানুর রহমান (১৯৯১ ব্যাচ)

ডা. ইমাদুর রহমান (১৯৯২ ব্যাচ)

তাওহিদাতুর রহমান (১৯৯৩ ব্যাচ)

সাফওয়ানুর রহমান (২০০০ ব্যাচ)


জামেয়া পরিবার গর্বভরে স্মরণ করে এমন এক অভিভাবককে, যিনি শুধুমাত্র নিজের সন্তানের নয়, পুরো জামেয়ার জন্যই ছিলেন এক নীরব প্রেরণার উৎস।

আল্লাহ তায়ালা ডা. হাবিবুর রহমান সাহেবকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করুন এবং তাঁর পরিবারের সকলকে উত্তম প্রতিদান দিন, আমিন।

Discover more from Jamia Alumni Network

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading